পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র মিছিলকে ঘিরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ

রামনবমীর
কলকাতা (এজেন্সী) – ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্রমিছিল ও সহিংসতার ঘটনায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে|
সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে এ ব্যাপারে আগামী ৩ এপ্রিল গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছে স্মারকলিপি দেযা হবে|
এ ব্যাপারে বুধবার বঙ্গীয় খ্রিস্টিয় পরিসেবা দফতরে এক জরুরি বৈঠকে বসেন সংখ্যালঘু নেতারা|
বৃহস্পতিবার সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি ও উগ্র গেরুযাবাহিনী মুসলিম পাড়াগুলোকে টার্গেট করে একনাগাড়ে ভীতিপ্রদর্শন করছে|
এরফলে সংখ্যালঘু মুসলিমরা কেবল আক্রান্তই নয়, গোটা রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমরা ভীতসন্ত্রস্থ অবস্থায় আছেন|
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক এটাই যে, পুলিশ প্রশাসন সংখ্যালঘুদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে|
সেজন্য আগামী ৩ এপ্রিল আমাদের রাজ্যের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছে স্মারকলিপি দিযে রামনবমীকে কেন্দ্র করে যেখানে যেখানে মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণে দেযার দাবি জানানো হবে|’
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা গোটা রাজ্যে যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেজন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেযার জন্য দাবি জানাতে দশ সদস্যের প্রতিনিধিদল গভর্নরের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছি|
আমরা আশা করব সংখ্যালঘুদের দুঃখ দুর্দশা বোঝার জন্য মহামান্য গভর্নর আমাদের সময় দেবেন এবং বিষয়টি বুঝবেন|
গোটা রাজ্যে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিযে যারা অস্ত্র নিযে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেযার জন্যও দাবি জানানো হবে|’
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আসন্ন পঞ্চাযে নির্বাচনের আগে সমস্ত স্তর থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করার আহ্বান জানিযেেন|

রামনমবীর নামে ভয় দেখানো হচ্ছো সংখ্যালঘুদের

অন্যথায় বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে সংখ্যালঘু মুসলিমরা টার্গেটের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন|
জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন বলেন, ‘প্ররোচনা সৃষ্টি করার যে কাজ চলছে তাতে সংখ্যালঘুরা মনে করছে সরকার বড় কিছু দুর্ঘটনা ঘটাতে দেবে না|
কিন্তু তার পরেও মনে মনে ভয় আছে, আতঙ্কের মধ্যে আছে বিশেষ করে যেসব জায়গায় সংখ্যালঘুরা সংখ্যায় খুবই কম।
যেমন পুরুলিযা, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর এসব জায়গায় সাম্প্রদাযিক শক্তি যারা আস্ফালন দেখাচ্ছে সেসব জায়গায় সংখ্যালঘুরা স্বাভাবিকভাবে ভীতসন্ত্রস্থ অবস্থায় আছে|’
মুহাম্মদ নূরুদ্দিন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যে ঘোষণা দিচ্ছে এবং যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে কার্যসক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন না করলে সমস্যা খুবই জটিল হবে|
এ ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট ঢিলেমি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন|
তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিযে বলেন, ‘যেসব অস্ত্র মানুষ হাতে তুলে নিচ্ছে, এত অস্ত্র আসছে কোথা থেকে? এত অস্ত্র বানানোর সুযোগ পাচ্ছে কীভাবে? সরকারের গোযে্দা বাহিনী কী করছে?
তারা এসব লক্ষ্য করছে না কেন? এজন্য মানুষের হাত থেকে অস্ত্র তুলে নিতে হবে|
সাধারণ মানুষের হাতে বোমা, বন্দুক, রাইফেল তির, বল্লম এসব যাতে না থাকে, অস্ত্র নিযে যাতে কেউ মিছিল করতে না পারে এগুলো সব বন্ধ করতে হবে|’

রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র মিছিল

সম্প্রতি রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র মিছিলকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিযা, মুর্শিদাবাদের কান্দি, বর্ধমানের রানিগঞ্জ, আসানসোলসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটেছে|
রানিগঞ্জ ও আসানসোল এলাকায় বেশকিছু বাড়িঘর, দোকানপাটে ভাঙচুরসহ দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিযে দেয়| পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারিসহ পুলিশ ও রাফ কে মোতায়েন করে সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে|

আসানসোলে ঝামেলা এখন শান্ত

আসানসোল“দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা বুধবার রাতে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে| এখনো পর্য্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে|’
প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী ৩০ মার্চ (শুক্রবার) দুপুর ১২টা পর্যরন্ত আসানসোল মহকুমায় সব ধরনের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে|
Please follow and like us:
Loading...