নরেন্দ্র মোদি বিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায ভারতের বিজ্ঞান সম্মেলন স্থগিত

Spread the love
হাযদ্রাবাদ (এজেন্সী)- নরেন্দ্র মোদি র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হতে পারে, এই চিন্তায় বিজ্ঞান কংগ্রেস স্থগিত করা হয়েছে। ভারতে বিজ্ঞান চর্চার সবথেকে বড় সম্মেলন । ভারতীয বিজ্ঞান কংগ্রেসের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী ওই অধিবেশন উদ্বোধন করতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন, এই আশঙ্কার কারণেই অধিবেশন আযোজন করতে অপারগতার কথা জানিয়েছে হাযদ্রাবাদের ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয কর্তৃপক্ষ।
হাযদ্রাবাদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্ত্বরে এবছরের বিজ্ঞান কংগ্রেসের অধিবেশন হওযার কথা ছিল, য়েখানে ২৫ জনেরও বেশী নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী সহ প্রায ১৫ হাজার বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীর যোগ দেওযার কথা ছিল। রীতি অনুযাযী প্রধানমন্ত্রীরাই বিজ্ঞান কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। কিন্তু হাযদ্রাবাদের ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গেলে সেখানে ছাত্র বিক্ষোভ হওযার আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দলিত ছাত্রের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয সরকার গত কয়ে বছরে য়েভাবে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গবেষনা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছাত্ররা মোদি এলে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছিল।
ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদ অধ্যাপক এস রামচন্দ্রম বলছিলেন, গত মাসখানেক ধরেই ক্যাম্পাসে কতগুলি বিষয নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। একটি ছাত্রের আত্মহত্যার বিষযও রয়েছে। তবে ছাত্ররাই চেয়েিল ক্যাম্পাসে বিজ্ঞান কংগ্রেসের উদ্বোধন হোক। কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বোধহয ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

মোদি ছাড়াও অনেক বড় বড় লোকেরা ভাগ নেবে এই কংগ্রেসে

প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আসবেন বিজ্ঞান কংগ্রেসে, তাই নিরাপত্তার বিষযটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে।
বিক্ষোভের বিষযটি পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেই ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞান কংগ্রেস দপ্তরে জানিয়ে দেন য়ে তাঁদের পক্ষে এবারের অধিবেশন আযোজন করা সম্ভব নয।
আমাদের কাছে পরশুদিন ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদ জানান য়ে অধিবেশন আযোজন করা সম্ভব নয। বিজ্ঞান কংগ্রেসের ১০৫ বছরের ইতিহাসে কখনও এরকম ঘটনা হয নি। বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি আর বাকি শীর্ষকর্তারা নিযমিত সেখানে গিয়ে পর্যাালোচনা করেছেন, আমি নিজে গত সপ্তাহেও গিয়েিলাম, কিন্তু অধিবেশন য়ে হবে না হাযদ্রাবাদে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাই নি, বলছিলেন বিজ্ঞান কংগ্রেসের অন্যতম মহাসচিব অধ্যাপক গঙ্গাধর।
ওসমানিযা বিশ্ববিদ্যালয চত্বরই একসময়ে ছিল পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ছাত্র সংগঠনগুলি বলছে, এখন আলাদা রাজ্য হওযার পরেও ছাত্ররা বঞ্চিত হচ্ছে “ কেন্দ্র আর রাজ্য “ দুই সরকারের কাছ থেকেই। তাই ছাত্র বিক্ষোভ য়ে হবে, সেটা স্বাভাবিক।
তেলেঙ্গানা ছাত্র ও বেকার যুব যুক্ত মোর্চার চেযারম্যান এবং সিনিযর ছাত্র নেতা কোট্টুরি মানভতারাই বলছিলেন, কিছুদিন আগে যখন এক দলিত ছাত্র আত্মহত্যা করল, ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছে।
মোদীর সরকার য়েভাবে গবেষণা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে, চাকরীর সুযোগ কমিয়েছে, তাই নিয়ে তাই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ আছেই। বিশ্ববিদ্যালয কর্তৃপক্ষ আর পুলিশ তাই ভয পেয়ে বিজ্ঞান কংগ্রেস সরিয়ে দিল এখান থেকে। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীকে ছাত্ররা জুতো দেখিয়েিল, তাই এবার প্রধানমন্ত্রী এলেও বিক্ষোভ হতই।
বিজ্ঞান কংগ্রেস কর্তৃপক্ষ ২৭ তারিখ এক জরুরী বৈঠকে বসতে চলেছে উদ্ভূত পরিস্থিতি কী ভাবে সামাল দেওযা যাবে, তা নিয়ে

Originally posted 2017-12-23 16:06:12.

Loading...