Press "Enter" to skip to content

নতুন বছরে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ

Spread the love



নযা দিল্লি (এজেন্সী) – নতূন বছরে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত সমস্যা ভারতের জাতীয নিরাপত্তার প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ| চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান নৈকট্য দিল্লির মাথা ব্যথার কারণ হযে থাকবে| কাশ্মীর ইসু্য জিইযে রাখার ইন্ধন জোগাবে এই নৈকট্য|
ভারত“মার্কিন সহযোগিতার করমর্দনে দিল্লিকে হাত বাড়াতে হবে সতর্কভাবে, মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা| বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক থাকবে অটুট|
বহু“কেন্দ্রিক নতুন বিশ্ব পরিস্থিতি শীতল যুদ্ধের পর ক্রমশই জোরালো হচ্ছে| এর প্রধান কারণ, শক্তিধর দেশগুলির নিজেদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, উগ্র“দক্ষিণন্থি রাজনৈতিক দলগুলির উত্থান, মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং জঙ্গিবাদ দমনে আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার আঁচ ভারতের সামনে এক চ্যালেঞ্জ হযে দাঁড়াবে নতুন বছরে|
১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের পর ভারত“পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যাবে| অন্যদিকে ভারতের সিকিম, চীনের তিব্বত এবং ভূটানের ত্রিমুখী সংযোগস্থলে স্ট্র্যাজটেজিক ডোকলাম এবং ভারতের উত্তর“পূর্বাঞ্চলীয রাজ্য অরুণাচল সীমান্তে চীনের তত্পরতা বৃদ্ধিতে ভারত“চীন সংঘাতের আশঙ্কা উড়িযে দেওযা যায না| এশিযা, তথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ওপর চীনের চাপ অব্যাহত থাকবে, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষযক বিশেষজ্ঞ মহল|
চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) বাস্তবাযিত হচ্ছে, যেটা যাবে পাকিস্তান নিযন্ত্রিত গিলগিট“বালটিস্তানের মধ্য দিযে যুক্ত করবে করাচির পশ্চিম উপকূলের গদর বন্দরকে চীনের সিংজিযান অঞ্চলের সঙ্গে| অর্থনৈতিক করিডরের নিরাপত্তা রক্ষা করতে যদিও পাকিস্তান বারো হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতাযে করবে, কিন্তু কালক্রমে গিলগিট“ বালটিস্তানের নিরাপত্তার ভার নেবে চীনের লাল ফৌজ|
পাকিস্তানে ব্যাপক সংখ্যায লালফৌজের উপস্থিতি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায বিপদের কারণ হতে পারে বলে ধারণা কূটনৈতিক মহলের| বালুচিস্তান, সিন্ধ ও গিলগিট“বালটিস্তানে জঙ্গিবাদ নতুন করে মাথা তুলছে| দেখা দিচ্ছে তালিবানিকরণ, বাড়ছে জাতিগত উত্তেজনা এবং ফলে ভেঙে পড়ছে অর্থনৈতিক কাঠামো|
পরিণামে ঐ অঞ্চলে বাড়বে রক্তপাতের আশংকা| এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে নতুন বছরে ভারতের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ| দ্বিতীযত, চীন“পাকিস্তান করিডরের পেছনে আছে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্বু দেশ রাশিযার সমর্থন| শুধু তাই নয, পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক মহড়াতেও যোগ দেয রাশিযা| আগ্রহ প্রকাশ করে সমরাস্ত্র বিক্রি করতে| সেটাও হবে ভারতের স্বার্থের পরিপন্থি|
কাজেই অ্যামেরিকাকে পাশে নিযে রাশিযাকে কিভবে হাতে রাখা যায, সেটাও হবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র এবং কূটনীতির পক্ষে এক বড় চ্যালেঞ্জ| ভারতের পাকিস্তান নীতিতে কোনো পরিবর্তনের আশা দেখা যাচ্ছে না| তবে কাশ্মীর নীতিকে আরও শান্তিমুখী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে| ডোনাল্ড প্রশাসনের পাকিস্তান বিরোধী নীতি, বিশেষ করে সন্ত্রাসে মদত দেবার অভিযোগে পাকিস্তানকে যেভাবে তুলোধোনা করা হয়েছে, তাতে ভারতের কাশ্মীর, তথা পাকিস্তান নীতির নৈতিক জয হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে|
অবশ্য আপাতদৃষ্টিতে সেটা মনে হলেও এখনই এই নিযে উদ্বেলিত হবার কারণ নেই| ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে চীন| এই অবস্থায দিল্লিকে আরও সতর্কভাবে পা ফেলতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা| তাঁদের মতে, দিল্লির উচিত হবে ভারত“চীন“আ্যামেরিকার মধ্যে এক ত্রিস্তরীয কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করা| তবে সেটাকে কিভাবে করা হবে সেটাই হবে দিল্লির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ|
পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি আটকাতে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারলে নিঃসন্দেহে সেটা হবে বড় কূটনৈতিক সাফল্য| ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান স্তম্ভ বলা বাহুল্য লুক“ইস্ট নীতি| প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতাভিত্তিক সুসম্পর্ক অটুট রাখা|
সেই লক্ষ্যে নতুন বছরের প্রথমেই দক্ষিণ“পূর্ব আশিযান দেশগুলি সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ| দশটি আশিযানভুক্ত দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানাবেন দিল্লিতে ২৬শে জানুযারি সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে| পাশাপাশি সার্ক দেশগুলির গুরুত্ব ক্রমশই ক্ষীযমান| ভবিষ্যতে ভারতীয উপমহাদেশে, তথা দক্ষিণ এশিযায এর প্রযোজনীযতা বিশেষ থাকবে বলে মনে হচ্ছেনা|
কাজেই ভারতের লক্ষ্য হবে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক“স্তরে সহযোগিতা আরও মজৱুত করা|
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষযক অধ্যাপক ত্রিদিব চক্রবর্তী অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করে ডযচে ভেলেকে বললেন, ‘‘নতুন বছরে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক| তারমধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ পাকিস্তান| অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে লাগাতার সমরাস্ত্র জুগিযে এসেছে| এখন চাকা ঘুরে গেছে|
পাকিস্তান এখন চীনের কাছে হাত পেতেছে| চীনের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে ইসলামাবাদ| যেমন, চীন“পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর| দ্বিতীযত, চীন যেভাবে দ্রুত উন্নতি করছে সব ক্ষেত্রে, ভারতকেও তাল মিলিযে এগিযে যেতে হবে| কারণ, ভারতের দিক থেকে সবথেকে বড় হুমকি চীন| বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক সন্দেহাতীত| তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণঅর্থী ইসু্য দু’দেশের চিন্তার কারণ হযে উঠেছে|
দিল্লির উচিত মিযানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রেখে মিযানমারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ঢাকার শরণার্থী সমস্যার সুরাহা হয|’’ অধ্যাপক চক্রবর্তী ডযচে ভেলেকে আরও বললেন যে, অ্যামেরিকা এখন ভারতের দিকে হাত বাড়িযেে ঠিকই, কিন্তু ভুললে চলবে না, অত্যধিক মার্কিন নির্ভরশীলতা কাম্য নয| অতীত অভিজ্ঞতা অন্তত তা“ই বলছে| ওযাশিংটন ভারতকে এখন কাছে টানছে নিজের ভূ“রাজনৈতিক স্বার্থে| চীনকে আটকাতে|



Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Mission News Theme by Compete Themes.