ত্রিপুরায় বন্দুকতন্ত্র চলছে – মোদি, দ্বিতীয় দফায় ভোট চাইতে এলেন প্রধানমন্ত্রী

0 37
আগরতলা (এজেন্সী) – ত্রিপুরায় গণতন্ত্র নেই, ‘গান (বন্দুক) তন্ত্র’ চলছে| দ্বিতীয় দফায় ভোট চাইতে এসে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি| ভোট প্রচারের শেষ দফায় অরুণাচল থেকে আগরতলায় উড়ে আসেন মোদি| বিমানবন্দর থেকেই উড়ে যান দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজারে| সেখান থেকে উড়ে আসেন আগরতলায়| রাজধানী আগরতলার বিবেকানন্দ স্টেডিযামেও নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী| দুটি জনসভাতেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো|

শুক্রবার বেলা চারটায় ত্রিপুরা বিধানসভার ভোট প্রচার শেষ| এর আগে জমে উঠেছে প্রচার| তবে বৃহস্পতিবার প্রচারের বেশির ভাগ আকর্ষণটাই কেড়ে নেন নরেন্দ্র মোদি| এদিন তিনি বিজেপি প্রার্থীদের হযে দুটি সভা করেন|
সভা দুটিতেই রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী| তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গণতন্ত্রের বদলে ‘গান (বন্দুক) তন্ত্র’ চলছে| সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের ‘দোস্তি’র| প্রথম দফার ভোট প্রচারে কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ না করলেও এবার কংগ্রেসকে ‘ভোট কাটনে কা পার্টি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি|
মোদির ভাষণে বারবার উঠে আসে উন্নয়নের প্রশ্নে ত্রিপুরা সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টি| সবকিছুতেই দলবাজির অভিযোগ করেন তিনি| ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারের বেতন থেকে শুরু করে বেকারদের কর্মসংস্থান“সব বিষযে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন মোদি| ডাক দেন, ‘নিউ ইন্ডিযা’র পাশাপাশি ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার|
মোদির এই ভোট প্রচারের পাশাপাশি কংগ্রেসের হযে এদিন প্রচারে ঝড় তোলেন অভিনেত্রী নাগমা, অভিনেতা রাজ বব্বর, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওযাত প্রমুখ|
প্রত্যেকের দাবি, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা গোটা দেশেই কমছে| ত্রিপুরাতেও তার প্রভাব পড়বে| মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জনবিরোধী কার্যোকলাপের উদাহরণ তুলে ধরেন তাঁরা| শুক্রবার শেষ বাজারে ত্রিপুরায় প্রচারে ঝড় তুলতে আসছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী|
তৃণমূলের পক্ষেও বৃহস্পতিবার ভোট প্রচার করা হয়| ধলাই জেলার কুলাইতে তৃণমূলের জোটসঙ্গী আঞ্চলিক দল আইএনপিটির হযে ভোট প্রচারে নামেন অভিনেতা সোহম, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৌগত রায়| সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের ভোট প্রচারে নামেন|
বিরোধীদের ভোট প্রচারের পাশাপাশি বামেরাও ভোট প্রচারে ঝড় তোলেন গোটা রাজ্যে| সুভাষিণী আলি, বৃন্দা কারাট, মো. সেলিমদের মতো সর্বভারতীয় সিপিএম নেতৃত্বের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও এদিন একাধিক জনসভায় ভাষণ দেন| তুলে ধরেন বিজেপির অপশাসনের ছবি| দাবি করেন, ত্রিপুরায় অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গঠন হচ্ছেই|
এদিকে নির্বাচন দপ্তরের তরফ নির্দেশ জারি করা হয়, বহিরাগতদের অবিলম্বে ত্রিপুরা ছাড়তে হবে| অর্থাত্ ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা নেতা“কর্মীরা শুক্রবার বিকেলের পর ভোট না শেষ না হওযা পর্য্ন্ত ত্রিপুরায় থাকতে পারবেন না| এ জন্য প্রতিটি জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওযা হয়েছে|
৬০ সদস্যের ত্রিপুরা বিধানসভার ৫৯ আসনে ভোট গ্রহণ রোববার সকাল সাতটা থেকে| ইভিএমে ভোট নেওযা হবে বিকেল চারটা পর্যণন্ত| ভোট গণনা ৩ মার্চ| একটি আসনে প্রার্থীর মৃতু্য়তে ভোট হবে ১২ মার্চ| সেখানে গণনা ১৫ মার্চ|

You might also like More from author

Comments

Loading...