ত্রিপুরায জোট নিযে জটিলতা, সবাইকে জড় করে বিজেপি ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে

0 24
আগরতলা (এজেন্সী) – ভারতের ত্রিপুরায শাসকজোট মনোনযন“প্রক্রিযা প্রায শেষ করে ফেললেও বিরোধীরা এখনো প্রার্থী বাছাইযে অথই জলে| কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটের বিষযে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে না| বিজেপি জোট চূড়ান্ত করলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করতে পারেনি| গত ৱুধবার ছিল মনোনযনপত্র জমা দেওযার শেষ দিন|

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা জিইযে রেখেই ত্রিপুরায প্রথম দফায ৬০ এর মধ্যে ৫৬টি আসনে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করল কংগ্রেস| অন্যদিকে, তৃণমূলও এককভাবে পাল্টা ১৪টি আসনে লড়াই করার ঘোষণা দিল শনিবার| ওই দিন রাতেই দিল্লি থেকে ঘোষিত হলো বিজেপির প্রার্থীতালিকা| তবে তাঁরা মাত্র ৪৪টি আসনের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে|
দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা অস্কার ফার্নান্ডেজ এবং আগরতলায দলের রাজ্য মুখপাত্র হরেকৃষ্ণ ভৌমিক প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেন| একই সঙ্গে কংগ্রেস জানিযে দেয, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযে জোট নিযে আলোচনা চলছে| তাই বদল হতেই পারে প্রার্থীতালিকায|
কংগ্রেসের কিছু পরেই তৃণমূলের পর্যেবেক্ষক সব্যসাচী দত্ত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন ১৪টি কেন্দ্রে লড়াই করার কথা| একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আদিবাসীদের সংগঠন আইএনপিটি ও এনসিটির সঙ্গে তাঁদের জোট হযেছে| তাঁদের জন্যও ১৬টি আসন ছেড়ে দিযেছেন তাঁরা| এখন জোট করলে কংগ্রেসকে ৩০টি আসনে লড়তে হবে| তবে মমতা“রাহুল বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনা জিইযে রাখেন|
সিপিএম অবশ্য আগেই সব আসনের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছে| আটজন বাম প্রার্থী ইতিমধ্যে মনোনযন পেশ করেছেন| শনি ও রোববার ছুটি থাকায আগামীকাল সোমবার থেকে ফের শুরু হবে মনোনযন দাখিল|
সোমবারই ধনপুর কেন্দ্রের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও মনোনযনপত্র দাখিল করবেন| ৱুধবার মনোনযনপত্র দাখিলের শেষ দিন| ভোট আগামী ১৮ ফেব্রুযারি| গণনা আগামী ৩ মার্চ|

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী, ছেলে বিজেপির প্রার্থী

আগরতলা (এজেন্সী) – ত্রিপুরা রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন| আর তার সুদীপ রাযবর্মণ লড়বেন বিজেপির প্রার্থী হিসেবে| রাজ্যটির ভোট রাজনীতিতে এটি এক নযা সমীকরণ|
ত্রিপুরাযজানা গিযেছে, বর্ষীযান কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিশালগড় কেন্দ্র থেকে মনোনযনপত্র জমা দেবেন| অন্যদিকে তার ছেলে সুদীপ রাযবর্মণ লড়ছেন আগরতলা কেন্দ্র থেকে| তিনি বিজেপি প্রার্থী| ফলে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ফের বাবা ও ছেলে দুই হেভিওযে প্রার্থীকে দেখা যেতে পারে রাজনীতির লড়াইযে যদিও সমীরবাৱু নির্বাচনে দাঁড়ানো নিযে মুখ খুলতে চাননি| তাঁর অনুগামীরাই এসব মনে করছেন| এদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ধৈর্যা ধরো| কী খেল দেখাবেন সমীরবাৱু তাই নিযে চলছে জোর চর্চা|
বিশালগড় কেন্দ্র থেকেই সমীরবাৱু ১৯৭২, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৩ সালে জযী হযেছিলেন| ১৯৯২ সালের ১৯ ফেব্রুযারি থেকে ১৯৯৩ সালের ১০ মার্চ পর্য ন্ত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী| আর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যেন্ত ছিলের বিরোধী দলনেতা| এমনই হেভিওযেছে কংগ্রেস প্রার্থী ছেলের মতোই দলত্যাগ করেছিলেন| তৃণমূল শিবিরে নাম লেখানোর পর পরে তাঁকে বহিষ্কার করে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস| তারপর সক্রিয রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন সমীরবাৱু| মনে করা হচ্ছিল তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিযেছেন|
গত বিধানসভা নির্বাচনে বিশালগড় কেন্দ্রে সিপিএমের ভানুলাল সাহার কাছে ১০২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন সমীররঞ্জন বর্মন| সেই কেন্দ্র থেকেই সমীরবাৱু ফের লড়তে চাইছেন এই খবরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িযেছে| ফলে কেন্দ্রটি ঘিরে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস ও নির্দলের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে| বিশালগড় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি| উপরন্তু সমীরবাৱুর নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে|
এদিকে বাবা আচমকা নির্বাচনে লড়তে চাইছেন এ বিষযে কোনও প্রতিক্রিযা মেলেনি সুদীপ রাযবর্মনের তরফে| তিনি রাজ্যে বিজেপির প্রধান মুখ, তথা অন্যতম বিরোধী নেতা| পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল শিবিরে যোগ দিযেছিলেন সুদীপবাৱু ও তাঁর পাঁচ অনুগামী| তাঁরা দলত্যাগ করায ত্রিপুরা বিধানসভায কংগ্রেস বিরোধী আসনের মর্যা দা হারায| তৃণমূল কংগ্রেস উঠে আসে শক্ত বিরোধীপক্ষ হযে এরপর দলত্যাগ করে সুদীপবাৱু ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপিতে যোগ দিযেছেন| ফলে তৃণমূল হারিযেছে শক্তি|

You might also like More from author

Comments

Loading...