জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক ট্রেন, ভারতের মৈত্রী এক্সপ্রেসের মতন হবে

0 12

নযা দিল্লি (এজেন্সী) – ট্রেন দিয়ে মেলবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানী এবং পোল্যান্ড।

ভারত“ বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে উপযুক্ত হলেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধনে কতটা অবদান রাখছে?
জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে এক সাংস্কৃতিক ট্রেন কিন্তু ঠিক সেই উদ্যোগই নিচ্ছে|
পার্টি চলছে, তবে কোনো ক্লাবে নয়, ট্রেনের মধ্যে| বার্লিন থেকে পোল্যান্ডের ভ্রত্স্লাভ শহরমুখী সাংস্কৃতিক ট্রেনে যাত্রার স্বাদই আলাদা|
শুধু সপ্তাহান্তেই দুই শহরের মধ্যে সরাসরি এই ট্রেন চলে| টিকিটের দাম ১৯ ইউরো|
সাড়ে চার ঘণ্টায় যাত্রীরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছন না, জার্মানি ও পোল্যান্ডের অতীত সম্পর্কেও অনেক কথা জানতে পারেন|
বার্লিনের নাটালি ভাসারমান আযোজকদের অন্যতম| তাঁর বাবা“মা পোলিশ|
দুই দেশের মধ্যে আদানপ্রদান তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|
তিনি বলেন, ‘‘এই সাংস্কৃতিক রেল সংলাপের সত্যি দারুণ সুযোগ করে দেয়|
শুধু শিল্পী নয়, নিজেদের মধ্যেও কথা বলা যায়|’’
ট্রেনের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনশোরও বেশি শিল্পী অংশ নিয়েছেন|
যেমন মাইকে হিলবিশ ‘ডাবল বাস’ বাদ্যয়ন্ত্র বাজান|
কবিতা“গল্প পাঠের আবহসংগীত সৃষ্টি করছেন তিনি|
ট্রেনের মধ্যেই এক চলমান গ্রন্থাগার জার্মানি ও পোল্যান্ডের অতীতে ঢুঁ মারতে সাহায্য করে|
সিটের গাযে ভ্রত্স্লাভ শহরের খ্যাতিমান পোলিশ ও জার্মান ব্যক্তিদের জীবন নিযে প্রদর্শনী শোভা পাচ্ছে|
মাগডালেনা সাভিলস্কা সেই ট্রেনে যাত্রা করে খুবই উত্সাহ বোধ করেন|
তিনি বলেন, ‘‘বার্লিন থেকে ভ্রত্স্লাভের মধ্যে এই রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি|
এটি সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের সুযোগ দেয়|
তাছাড়া দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস নিযে ঘাঁটাঘাঁটি ও তা আরও ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করতে পারি|
এভাবে ভবিষ্যতকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারি|’’

গত বছর ট্রেন কে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে

২০১৬ সালে ভ্রত্স্লাভ ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক রাজধানীর স্বীকৃতি পাওযার পর এই সাংস্কৃতিক ট্রেন চালু হয়|
২০১৭ সালে ট্রেনটি একটি পুরস্কারও পেয়েছে।
ভ্রত্স্লাভ শহরের সর্বত্র জার্মান অতীতের ছাপ দেখতে পাওযা যায়|
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শহরটি পোল্যান্ডের অংশ|
ভল্ফ কাম্পমান শহরের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে একটি উপন্যাস লিখেছেন|
তিনি বলেন, ‘‘১৯৪৫ সাল পর্য ন্ত ভ্রত্স্লাভ বা ব্রেসলাউ শহর ছিল শুধুই জার্মান শহর|
১৯৪৬ থেকে নব্বইযে দশক পর্য,ন্ত সেটি শুধুই পোল্যান্ডের শহর ছিল|
শহরটির যে জার্মান এবং পোলিশ ইতিহাস রয়েছে, গত কযে বছরে সে বিষযে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে|
এখন এটি জার্মান“পোলিশ শহর| দুই দেশের মানুষের সাক্ষাতের জায়গা|
সেখানে প্রতিশোধের কোনো জায়গা নেই|’’
ট্রেনে যাত্রীদের জন্য এক ‘সাইলেন্ট ডিস্কো’ রয়েছে|
হেডফোনের সাহায্যে তাঁরা গান শুনে তালে তালে নাচতে পারেন|
এক যাত্রী বললেন, ‘‘আমার মতে, ভবিষ্যত্ এসে পড়েছে|
মনে হয়, আমরা মন খুলে সঠিক দিশায় এগোচ্ছি|
তাই সত্যি বড় আনন্দ হচ্ছে| সবাইকে একসঙ্গে দেখে খুশি হচ্ছি|’’
৩০,০০০“এরও বেশি যাত্রী এর মধ্যে এই সাংস্কৃতিক ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন|
সাংস্কৃতিক ট্রেনের আযোজক নাটালি ভাসারমান বলেন, ‘‘এই সাংস্কৃতিক ট্রেন সত্যি কোনো জটিলতা ছাড়াই মানুষকে পরস্পরের কাছে আনছে|
অত্যন্ত প্রাণোজ্জ্বল পরিবেশে, খেলাচ্ছলে সেটা ঘটছে|
সংস্কৃতি ও আদানপ্রদানের ভিত্তিতে জাতি হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে সাক্ষাত্ ঘটছে|’’
আযোজকরা এই প্রকল্প ইউরোপের অনেক শহরের মধ্যে ছড়িযে দিতে চান|
পরস্পরকে চেনা ও আরও উন্মুক্ত ইউরোপের স্বার্থে এমনটা প্রযোজন|

You might also like More from author

Comments

Loading...