চীন থেকে পাঠানো কার্ল মার্ক্সের ভাস্কর্য নিযে জার্মানিতে বিভেদ

0 12
বার্লিন (এজেন্সী) – চীন থেকে উপহার হিসাবে পাঠানো কাল মার্ক্সের একটি ভাস্কর্যে নিযে জার্মানিতে বিভেদ শুরু হয়েছে|
কমু্য়নিস্ট মেনিফেস্টো বা ইস্তেহারের সহলেখক কার্ল মার্ক্সের জন্ম হয়েছিলো জার্মানির যে ট্রিযার শহরে, তার দুইশোতম জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে ওই ভাস্কর্য্টি স্থাপন করার কথা|
কিন্তু তা নিয়ে শহরে পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়েছে| শনিবার দুই পক্ষের লোকজনই শহরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে|
কার্ল মার্ক্স লিখেছিলেন, শ্রেণী বৈষম্যের ওপর ভর করেই সব মানব ইতিহাস তৈরি হয়েছে| তার বক্তব্য নিযে ইউরোপে বিতর্ক থাকলেও, সেটি ঘিরেই চীনা সরকারের মূল আদর্শ তৈরি হয়েছে|
তবে ট্রিযার শহরের কর্তৃপক্ষ জানিযে দিয়েছে, ’’আপনি যদি মার্ক্সকে সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন, কিন্তু সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কোন কর্মকাণ্ড করা যাবে না|’’

জার্মানিতে কার্ল মার্ক্স নিযে কেন এই বিতর্ক?

তার থিওরি বা মতাদর্শ ঘিরেই কমু্য়নিজম বা সমাজতন্ত্রের মূল আদর্শ তৈরি হয়েছে, যেখানে সবকিছুর মালিক হবে সমাজ বা রাষ্ট্র এবং কোন শ্রেণী বিভেদ থাকবে না|
যদিও সোভিযেত ইউনিয়ন বা চীনের মতো সমাজতান্ত্রিক সরকার চালিত অঞ্চল বা দেশগুলো নির্যা তন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অনেক কুখ্যাতি পেয়েছে|
জার্মানির পূর্বাঞ্চল ১৯৪৯ সাল থেকে পুনর্মিলনের সময় ১৯৯০ সাল পর্যোন্ত সোভিযেত নিয়ন্ত্রণে ছিল, যখন এই অঞ্চলটি ছিল ধনী পশ্চিম জার্মানির চেযে অনেক দরিদ্র|
জার্মানির রাইনল্যান্ড“পালাটিনেট স্টেটের নেতা মালু ড্রেযার বলছেন, কার্ল মার্ক্সের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করার মানে তাকে সম্মাননা জানানো হয়, তার কর্ম নিযে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি হওযা|
কিন্তু ইউরোপিযান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্য“ক্লদ ইয়োঙ্কার বলেছেন, মার্ক্সকে এখন এমন অনেক কিছুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে, যার জন্য তিনি দায়ী নন এবং সেসবের ক্ষেত্রে তার কোন ভূমিকা ছিল না|
অনেক কিছুই তিনি লিখেছেন যার ঠিক উল্টোটা করা হয়েছে|

ভাস্কর্য নিযে সমস্যা কোথায়?

ট্রিযার শহরের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যবটি নিযে বিতর্ক চলছে প্রায় দুই বছর ধরে,যে চীনের উপহারটি গ্রহণ করা হবে কিনা|
অনেকের অভিযোগ, চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে এই ভাস্কর্যহ গ্রহণ খাপ খায় না|
শুক্রবার জার্মানির লেখকদের সংগঠন পেন বলেছে, চীনের নোবেল বিজযী লিউ শিযাবোর বিধবা স্ত্রী লিউ শিযাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি না দেযা পর্য ন্ত ভাস্কর্যনটি উন্মোচন করা উচিত হবে না|
কোন অপরাধে অভিযুক্ত না হওযা সত্ত্বেও ২০১০ সাল থেকে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে|
তবে ট্রাযারের মেয়র উলফ্রাম লেইবি বলেছেন, ‘‘বন্বুত্বের নিদর্শন হিসাবেই এই উপহারটি আমরা গ্রহণ করেছি|
কার্ল মার্ক্সকে নিযে আলোচনা করতে এই ভাস্কর্যব মানুষকে উত্সাহ দেবে| হয়তো কিছু মনোভাব এবং ভ্রান্ত ধারণার পরিবর্তন হবে|’’
জার্মানিতে কার্ল মার্ক্সের আরো স্থাপত্য রয়েছে|
যে বাড়িতে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন সেটি ছাড়াও বার্লিনের একটি পার্কে একটি ভাস্কর্যো রয়েছে|
প্রতিবছর ৪৫ লাখ পর্যয়টক ট্রাযার শহরে আসে, যার মধ্যে ৫০ হাজার আসেন চীন থেকে|

মার্ক্সের বিষযে চীনের কেমন মনোভাব?

কার্ল মার্ক্সকে আধুনিক সমযে সবচেযে বড় মনিষী বলে শুক্রবার বক্তব্য দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং|
তিনি বলেছেন, চীনের কমু্য়নিস্ট পার্টির উচিত মার্ক্সিজমের শেকড়ে যাওয়া| মার্ক্স সবসমযে এই দলের অভিভাবক এবং আদর্শ হিসাবে থেকে যাবেন|
কার্ল মার্ক্সের থিওরির ওপর চীনের শিক্ষার্থী এবং সরকারি চাকুরীজীবীদের বাধ্যতামূলক কোর্স সম্পন্ন করতে হয়|
তা সত্ত্বেও, চীনের পুঁজিবাদী ধরণে সেদেশে শত শত কোটিপতির তৈরি হয়েছে এবং দেশটিতে ধনী আর দরিদ্রের চরম ব্যবধান রয়েছে|

কার্ল মার্ক্স কে ছিলেন?

জার্মানির একজন ইহুদি আইনজীবীর পুত্র কার্ল মার্ক্স প্যারিসে গিযে বিল্পবী কমু্য়নিস্ট হন এবং তার আজীবনের বন্বু ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের সঙ্গে পরিচিত হন|
তারা দুজনে মিলে কমু্য়নিস্ট মেনিফেস্টো বা ইস্তেহার লেখেন, যার মুল বক্তব্য হচ্ছে সব মানব ইতিহাস শ্রম বৈষম্যের ওপর তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের শ্রমিকদের ধনী সম্প্রদাযে কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিযে নিতে হবে|
এরপর কার্ল মার্ক্স লন্ডন চলে যান এবং দাস ক্যাপিটাল লেখেন, যেখানে বলা হয়, ব্যক্তিগত লাভের ওপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক পদ্ধতি হচ্ছে অস্থাযী একটি ব্যবস্থা| শ্রমিকরা কারখানা মালিকদের মাধ্যমে শোষণের শিকার হন এবং তাদের শ্রমের পণ্যের মালিকানা পান না|
তার মতে, তারা এসব মেশিনের চেযে সামান্য উন্নত জীবনযাপন করেন| ১৮৮৩ সালে কার্ল মার্কস মারা যান এবং তাকে লন্ডনের হাইগেট কবরস্থানে সমাহিত করা হয়|

You might also like More from author

Comments

Loading...