ঘরের মধ্য আগলে রাখা মৃতদেহ, প্রশাসন পাশে না থাকায শহরবাসীর ক্ষোভ

মৃতদেহ
অনিরুদ্ধ সরকার
বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়ার প্রতাপবাগান এলাকায বিছানার উপর পড়েছিল পচনধরা মৃতদেহ| দিব্বি চলছিল দৈনন্দিন জীবনযাত্রা তিন বোনের| দিদির মৃতদেহ পাশে নিযে খাওয়া দাওয়া ঘুম সবই ছিল খুবই সাধারন| সম্প্রতি গত বৃহস্পতি বার মৃতা অর্চনা পালের এই কান্ডকে ঘিরে কার্যেত হইচই পড়ে গয়েছিল|
স্থানীয বাসিন্দারা জানতে পারে অর্চনা পালের মৃতদেহ বেশ কিছুদিন বাড়ীর মধ্য রয়েছে| সেই মতো বাঁকুড়া থানায তারা অভিযোগ জানায| বাঁকুড়া থানার পুলিশ এসে তাদের বসবাস করা জরাজীর্ণ, অপরিচ্ছন্ন ও দরজা বন্ধ করা বাড়ী থেকে উদ্ধার করে অর্চনা দেবীর দেহকে|
মৃতদেহের সাথে থাকা তিন বোনই মানসিক রোগী| মৃতদেহ উদ্ধারের পর বাঁকুড়া মেডিকেলে পাঠানো হয চিকিত্সার জন্য ও মৃত দেহকে মযনা তদন্তের জন্য পাঠানো হয| পাড়া থেকে জানা গিয়েছিল বোনেরা প্রায় সময়ই ঝগড়াঝাঁটি করতো মাঝ রাত্রিতে জল ভরতে যেতো, রান্নার জন্য জিনিস কিনতে যেতো|
বাঁকুড়া পুলিশ জানায তিন জনের নাম টুকটুকি, লিলি, তপতী| তিনজনেই মানসিক অসুস্থ ও একজন গভীরভাবে শারীরিক অসুস্থ| বাড়ীতে কোনো পুরুষ নেই| এবং আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না| তাই সত্কার করেনি বলে প্রাথমিক অনুমান|

পৌরসভা দাড়ায় নি মৃতদেহ সংস্কারে

বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শুক্রবার দুই বোনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ছোট বোন তপতীর পা আগে থেকেই ভেঙে থাকায চিকিত্সার জন্য অর্থপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট রাখা হয| এই ঘটনার খবর পেযে বাঁকুড়া পৌরসভা তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছিল|
কিন্তু গত রবিবার দাহ করা হয ময়না তদন্ত করা অর্চনা পালের দেহ| কিন্তু পৌরসভার কোনও উদ্যোগ দেখা য়াযনি বরং পাশে দাড়িয়েছে প্রতিবেশীরাই| দীর্ঘ তিন দিন সত্কারের অপেক্ষায পড়েছিল দেহ| পরিবার, আত্মীয, স্বজন ও পৌরসভাকে দেখা যায়নি।
বাকি দুই বোন দাহ করার অবস্থায মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিল না| এক প্রতিবেশি সুব্রত মুখোপাধ্যাযে উদ্দ্যোগে মৃত দেহ সত্কারের জন্য নিযে আসা হয মর্গ থেকে বাকুড়া লক্ষাতড়া মহাশশ্মানের ইলেকট্রিক চুল্লিতে| এই ঘটনায শহরবাসীর বহু মানুষ বাঁকুড়া পৌরসভা ও জেলাপ্রশাসনে অমানবিকতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন|
বিভিন্ন মোড়ের মাথায আলোচ্য বিষয় হযে ওঠে| জুনবেদিয়া এলাকার এক বাসিন্দা তাপস ঘোষ জানায় এ ক্ষেত্রে পৌরসভাকে তাদের পাশে থাকা উচিত্ ছিল| বাঁকুড়া পৌরসভাধীন ২৩ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা সোমনাথ গরাই পেশায চিকিত্সক জানান প্রতিবেশিরা এ কাজ করায আরও অনান্য ওয়ার্ডের মানুষ জন ও গ্রামাঞ্চলের মানুষজন তাতে অনুপ্রানীত হল| মানুষ মানুষের পাশে হযে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক| রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেককিছুই বলতে পারেন|
Please follow and like us:
Loading...