গোরক্ষপুরের ফল নাড়িযে দিয়েছে এনডিএ কে, গেরুয়া শিবিরে অশনি সংকেত

0 48
অভিজিত্ রায়
জামশেদপুর (এজেন্সী) – তিনটি লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলে গেরুয়া শিবিরে কিছুটা হলেও অশনি সংকেত সৃষ্টি করেছে| ঠিক বছরখানেক আগে যে উত্তরপ্রদেশে অভূতপূর্ব মাত্রায় জয় প্রতিষ্ঠা করেছিল বিজেপি, কয়েক দিন আগে প্রকাশিত ওই রাজ্যের দুটি লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলে তাতে যথেষ্ট কলঙ্কের আঁচড় পড়েছে|
হিন্দুত্বের নতুন পোস্টারবয় বলে অভিহিত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গত পাঁচবারের টানা জয় করা লোকসভা কেন্দ্র গোরক্ষপুরের উপনির্বাচনে তাঁর দল এবার মুখ থুবড়ে পড়েছে|
উপমুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে আসা কেন্দ্র ফুলপুরেও পদ্মপ্রতীকের ভরাডুবি ঘটেছে| পরবর্তী লোকসভা ভোটের আর মাত্র বছরখানেক বাকি|
তার আগে রামমন্দিরের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপি’র এই বিপর‌্যয় গোটা গেরুযা শিবিরকে নাড়িযে দিয়েছে|
কযেমাস আগে অন্য কযেটি রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী“অমিত শাহের দল আশানুরূপ জয় আনতে না পারায় গুঞ্জন শুরু হয়েছিল|
এনডিএ শিবিরে ইতিউতি ক্ষোভ“বিক্ষোভের আঁচ মিলছিল| বিজেপি’র সবচেযে পুরনো সঙ্গী শিবসেনা চড়াগলায় জানিযে দিয়েছিল, আগামী লোকসভা ভোটে তারা আলাদাভাবে লড়বে|
আর এক শরিক অকালি শিরোমণি দলও প্রকাশ্যেই বিজেপি’র বিরুদ্ধে বেসুরো গাইছিল| এই পটভূমিতে দাঁড়িযে উত্তরপ্রদেশের লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপি’র ভরাডুবির পর এনডিএ পরিবারের এক শক্তিশালী সদস্য তেলুগু দেশম পার্টি মোদী“শাহদের শিবির ছেড়ে দিল|
এখানেই শেষ নয়| বিজেপি’র জন্য আর দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছিল| বিহারের জিতনরাম মাঝির পথ ধরে ওই রাজ্যের রামবিলাস পাসোযানের দলও জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে|
শোনা যাচ্ছে জম্মু“কাশ্মীরে বিজেপি যাদের সঙ্গে যৌথভাবে রাজ্য সরকার চালাচ্ছে সেই মেহৱুবা মুফতির দলেরও এনডিএ ছেড়ে যাওযা নাকি কেবল সমযে অপেক্ষা|
মাত্র ক’দিন আগেই ত্রিপুরা জযে মাধ্যমে দেশের একুশটি রাজ্যকে গৈরিক পতাকার তলায় এনে ফেলার ইতিহাস রচনা করেছিলেন মোদি“শাহরা| অন্ধ্রের তেলুগু দেশম পার্টি এনডিএ ত্যাগ করায় ওই ঐতিহাসিক জয়যাত্রায় ছেদ তো পড়লই, গোটা দক্ষিণ ভারতই গৈরিকমুক্ত হযে গেল|
এই প্রবণতা অন্যান্য রাজ্যে পড়লে গৈরিকমুক্ত এলাকার আয়তন আরও প্রসারিত হওযার আশঙ্কা থাকছেই| ২০১৪ সালে বিপুল বিক্রমে দেশের শাসনক্ষমতা দখলের পর মাত্র চার বছর কাটার আগেই প্রবল পরাক্রান্ত পদ্মশিবিরের পক্ষে এঘটনা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়|
শাসক শিবিরে এমন উল্টো হাওযা কেন? শরিকদলগুলির নেতারা কেন গেরুযাশিবির ছেড়ে যেতে চাইছেন? এ প্রশ্ন উঠতেই পারে| আসলে, নেতারা কোনও মহান আদর্শের টানে বন্বুকে বিদায় জানাচ্ছেন, ব্যাপারটা এমন নয়|
প্রকৃত ঘটনা হল, সাধারণ মানুষই পদ্মপ্রতীকের মালিকদের উপর আর তেমন আস্থা রাখতে পারছে না|
২০১৪’র লোকসভা ভোটের মুখে মোদী ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা সাধারণ মানুষের মনে যে বিপুল প্রত্যাশার বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন, তাদের যে রঙিন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, গত চার বছরে তার সামান্যও পূরণ হয়নি|
বহু মানুষের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছে| ঘটেছে মোহমুক্তি| সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ, কোনও বিষযে অতিসক্রিয়তা, আবার কোনও কোনও ইসু্য়তে চরম নীরবতা ও উদাসীনতা বহু মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে|
মোদী “শাহ“যোগীদের এইসব পদক্ষেপ, ভূমিকা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মানুষ সক্রিয় হতে শুরু করেছে| একমাত্র ত্রিপুরা বাদে অন্য যেসব রাজ্যে সম্প্রতি নির্বাচন অথবা উপনির্বাচন হয়েছে তার ফলাফলে মানুষের ওই মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে|
অধিকাংশ শরিকদল সম্ভবত দেওযালের লিখন এরকমই পড়ছে“গেরুযা শিবির থেকে যত শীঘ্র সম্ভব সরে পড়তে না পারলে আগামী নির্বাচনে তাদেরও ভরাডুবি কেউ ঠেকাতে পারবে না|

You might also like More from author

Comments

Loading...