মালদাঃ  এনআরসি নিয়ে গুজবের জেরে মালদায় তুলকালাম।

মালদা জেলার কালিয়াচক ১ নং ব্লক অফিসে মঙ্গলবার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ

রেশন কার্ড সংশোধন এবং নতুন ভাবে রেশন কার্ড তৈরী করতে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লো ব্লক অফিসে।

ভিড়ে ঠাসাঠাসি হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন বয়স্ক মানুষ।

তড়িঘড়ি পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

এদিন পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক ছিল যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

হুড়োহুড়ির খবর জানাজানি হতেই কালিয়াচক ১ নং ব্লক অফিসে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ছুটে আসেন

আইসি আশিস দাস সহ ব্লকের প্রশাসনিক কর্তারা।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।

 

রেশন কার্ডের কাজ চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

কিন্তু এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক মানুষকে এতটাই গ্রাস করেছে যে,

যে যেভাবে পেরেছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফর্ম নিয়ে করে জমা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কেউ হাতে জমির দলিল, পূর্বপুরুষের পরিচয় পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ব্লক অফিসে।

কিন্তু এসবের কোনো প্রয়োজন নেই বলে বারবার পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়।

ধীরে-সুস্থে, সুষ্ঠভাবে, শৃঙ্খলা বজায় রেখে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং জমা দেওয়ার কথা বলা হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।

এর মধ্যে সারাদিন ঠেলাঠেলি হুড়োহুড়ির মধ্যে চলে ডিজিটাল রেশন কার্ড সংশোধনের কাজ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে , বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি

এবং সংশোধনের কাজ চলছে বিভিন্ন ব্লক অফিসগুলিতে।

পাশাপাশি  ভোটার আইডেন্টিটি কার্ড সংশোধনেরও কাজ শুরু হয়েছে।

ডিজিটাল রেশন কার্ডের কাজ চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

আর ভোটার আইডেন্টিটি কার্ড সংশোধনের কাজ চলবে ১৫  অক্টোবর পর্যন্ত।

কিন্তু এরই মধ্যে কালিয়াচক জুড়ে গুজব রটে গিয়েছে যে ডিজিটাল রেশন কার্ড না করতে পারলে

হয়তো তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই আতঙ্কে  কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ব্লক অফিসে ।

যে কোন সময় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কার্ড তৈরি করতে আসা ওই এলাকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

কালিয়াচকের গয়েশবাড়ি  এলাকার বাসিন্দা মনিরুল হক, আলিমুদ্দিন শেখ, আমজাদ মিঞাদের বক্তব্য,

ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকলে যদি এনআরসি লাগু হয় তাহলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

হাতে আর সময় নেই । অসহ্য গরম, তার মধ্যে ঠেলাঠেলি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

দম বন্ধ হয়ে যাবার মতো অবস্থাতেই লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল রেশন কার্ডের আবেদনপত্র গ্রহণ করতে হচ্ছে।

তারপর আবার সেটি ভর্তি করে জমা দিতে হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে ঠিকই ।

কিন্তু প্রাণ গেলেও এই ভাবেই কাজ করতে হবে।

সবাই বলছে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি না হলে নাকি দেশ ছাড়তে হবে।

এনআরসির আতঙ্কে সব কাজ বন্ধ করে মানুষ ভীড় করছেন ব্লক অফিসে

গুজব কালিয়াচক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

আতঙ্কে মানুষ এখন কাজকর্ম, রান্নাবান্না ছেড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্লক অফিসে ভীড় করছেন।

কালিয়াচক ১ নং ব্লকের বিডিও সন্দীপ দাস জানিয়েছেন,  “এলাকায় একটা গুজব ছড়িয়েছে বলে শুনেছি ।

সরকারি নিয়ম মেনে ডিজিটাল রেশন কার্ড  তৈরি কাজ শুরু হয়েছে।

অযথা যারা গুজব রটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি”।

কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস জানিয়েছেন,  “কারা, কিভাবে এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাইকিং করে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে

মাইকিং করে আমরা মানুষকে বোঝাচ্ছি।

অযথা আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই”।

কালিয়াচক ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান বলেন,  “কিছু মানুষের মধ্যে এনআরসি নিয়ে

একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

এই ভুল ধারণা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম মেনে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি হচ্ছে ।

এনআরসি নিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে “।

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.