My title page contents Press "Enter" to skip to content

আগরতলা বিমানবন্দরের জন্য জমি সংক্রান্ত ভারতের চিঠি পায়নি বাংলাদেশ




রফিকুল ইসলাম সবুজ

ঢাকাঃ আগরতলা বিমানবন্দরের জন্য জমি সংক্রান্ত ভারতের চিঠি পায়নি বাংলাদেশ।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে

সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে ভারত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তে এই জমি চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে শনিবার এমন খবর প্রকাশিত হলেও

আগরতলা বিমানবন্দরের জন্য জমি চাওয়া সংক্রান্ত ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় পায় নি বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

রবিবার বিদেশ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এই তথ্য জানান।

বিদেশ মন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, আগরতলা বিমানবন্দরের জমি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রণালয় কোনো চিঠি পায়নি।

তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। তখন এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, গত অক্টোবরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়

ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে বিদেশ মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ যদি জমি দিতে চায় তাহলে তার প্রক্রিয়া কী হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউএজ নামের একটি ইংরেজী দৈনিকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে

উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে আগরতলা বিমানবন্দরে

আকাশযানগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

আগরতলা বিমানবন্দরের জন্য জমি ব্যাপারে রাজনাথের  সাথে কথা

ভারত সর্বপ্রথম বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কাছে বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব উত্থাপন করে

গত বছরের জুলাই মাসে।

ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র ও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে

এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন,

আমাদের কাছে বিষয়টি পেশ করা হলে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে নিউএজ পত্রিকা জানিয়েছে যে,

এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ঠিক কতটুকু  জমি চাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে, অক্টোবরের বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই কর্মকর্তা নিউএজকে জানিয়েছেন যে,

ভারতের সঙ্গে ভূখণ্ড শেয়ার করা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে

সামরিক কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দরটি কিভাবে পরিচালিত হবে, জমি ইজারা দেয়া হবে কি না

ও জমি দিতে চাইলে সরকারকে কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এসব বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারিত হলে,

বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতর লাইট স্থাপন করবে ও নিরাপত্তার জন্য সেখানে বেষ্টনী দেওয়া হবে।

ভারতের প্রস্তাবের ইতিবাচক সারা

এবিষয়ে বিদেশ মন্ত্রনালয়ের সচিব শহিদুল হক বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এর সঙ্গে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় জড়িত।

তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবরের বৈঠকে সবাই ভারতের প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সকলেই মনে করে যে, এতে আমাদের ভূখণ্ড সুসংযুক্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অংশ সুইজারল্যান্ডে

ও কিছু অংশ ফ্রান্সে পড়েছে।

১৯২০ সালে স্থাপিত এই বিমানবন্দরে সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স দুই দিক থেকেই অবতরণ করা যায়।

ফলে সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হওয়া সত্তেও

জেনেভা ইইউ’র ফ্রেইট হাবে পরিণত হয়েছে।

তবে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভূখণ্ড দেওয়া হলে তাতে জাতীয় নিরাপত্তা খণ্ডিত হবে কিনা

জানতে চাওয়া হলে বিদেশ সচিব বলেন, নিরাপত্তার ব্যপারটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখবেন।

আমি বিষয়টিকে বড় আঙ্গিকে দেখি এবং বাণিজ্য ও সচলতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি।

তিনি আরো বলেন, বহু দেশেই আন্তঃসীমান্ত বিমানবন্দর রয়েছে।

অনেক দেশ একই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।

তবে প্রস্তাবটি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বলছেন, মুদ্রা নীতি, অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নীতিসহ অনেক বিষয়ে

ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বাংলাদেশে সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,

বিমানবন্দরটির ব্যবস্থাপনা দুই দেশ করবে কিনা বা এটি কোনো যৌথ উদ্যোগে হবে কিনা সেটা একটি প্রশ্ন।

এটা যৌথ উদ্যোগে হলে বিবেচনা করা যায়।

তা না হলে জমি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক প্রাক্তন মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন

এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ভারতের বিমানবন্দর কিভাবে বাংলাদেশের মধ্যে

সম্প্রসারণ করা যাবে? এ ব্যাপারে সরকারকে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হবে।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিমানচলাচল কোনো দিক দিয়েই এটা যৌক্তিক নয়।

আমাদের নিজস্ব বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা উচিত, অন্যদের নয়।

অক্টোবরে দিল্লি যাচ্ছেন হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী অক্টোবর মাসে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন

বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

রবিবার বিদেশ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যেতে পারেন।

এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা করতে, তার আগে চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় আসছেন

ভারতের বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর।

আমি হজ শেষে ১৭ আগস্ট দেশে ফিরব।

আগস্টের ২০-২১ তারিখের দিকে তিনি ঢাকায় আসবেন।



Spread the love
More from বিবৃতিMore posts in বিবৃতি »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.